মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C

বাউফল উপজেলার তেঁতুলিয়া নদী

তেঁতুলিয়া নদী

 

মেঘনার নিম্নাংশের একটি ধারা তেতুলিয়া নামে পরিচিত। ভোলা জেলার  উত্তরে মেঘনা নদী হতে উৎপন্ন হয়ে তেঁতুলিয়া, নিমদি, কালাইয়া, পূর্বমুনিয়ার দিয়ে প্রবাহিত হয়ে গলাচিপা উপজেলার রনগোপালদি নামক স্থানে বুড়িগৌরঙ্গ নামে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।

 

পূর্বে এ নদী  অত্যন্ত ভয়ঙ্কর ছিল; কিন্ত বর্তমানে বিরাট চরা পড়ার ফলে ততটা ভয়াবহ নয়। বাউফলউপজেলারএনদীরচরগুলোকেনিয়েবর্তমানেএকটিনতুনইউনিয়নগঠনকরাহয়েছে,যাচন্দ্রদ্বীপনামেপরিচিত৷এচন্দ্রদ্বীপইউনিয়নটিরইতিহাসওঐতিহ্যবহুপ্রাচীন৷বরিশালেরপূর্বনামচন্দ্রদ্বীপেররাজধানীকচুয়াবাউফলউপজেলায়অবস্থিতএবংকচুয়াবাউফলউপজেলারএকটিমৌজা৷ এই নদী ভোলাকে বরিশাল ওপটুয়াখালী মূল ভূখন্ড থেকে বিছিন্ন করেছে। এর পশ্চিম মুখে রামনাবাদ দ্বীপ অবস্থিত। শাহবাজপুর থেকে মেঘনা নদীর একটি শাখা এর সাথে মিলিত হয়েছে। এ নদীর অপর একটি অংশ দক্ষিণদিকে বাকেরগঞ্জ, পটুয়াখালী ও বাউফল উপজেলার মধ্যদিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।  এ নদী পটুয়াখালী শহরের নিকট পূর্বদিকে মোড় নিয়ে দক্ষিন দিকে প্রবাহিত হয়ে গলাচিপা  উপজেলা সদরকে বাম পাশে রেখে আগুনমুখা, রামনাবাদ নদীতে মিলিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে পড়েছে।

নদীটির দৈর্ঘ্য৮৪ কিলোমিটার গড় প্রশস্ততা ৬ কিলোমিটার। এ নদীতে পানি সমতল, উপাত্ত সংগ্রহের জন্য অব টেক অব মেঘনা, টঙ্গীবাড়ি, ভোলা,খেয়াঘাট,ধুলিয়া এবং দাসমুনিয়ায় পানি সমতল গেজ আছে।  অব টেক অব মেঘনাতে সর্বোচ্চ ৪.২৭ মিটার এবং সর্বনিম্ন (-) ১.৩১ মিটার পানি সমতল লক্ষ্য করা গেছে।

এ নদীতে জোয়ার ভাটা খেলে। এ নদীতে ধুলিয়া, দাসমুনিয়ায়এবং চড়পেনুয়াতে নদীর পানি সংগ্রহ ও বিশ্লেষন করে লবনাক্ততা  নিরুপণকরা হয়।ধুলিয়াবাজার, গঙ্গাপুরবাজার, মনিপুরবাজার, কালাইয়া বন্দর, দাসমুনিয়া বাজার ইত্যাদি তেঁতুলিয়া নদীর তীরে অবস্থিত।পটুয়াখাল জেলার বাউফল উপজেলার নাজিরপুর খাদ্যগুদাম, কালাইয়া বন্দরের খাদ্যগুদাম, স্কুল, মাদ্রাসা, ব্যাংক ইত্যাদিসহ তিনটি ঘূর্নিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র এ নদীর তীরে অবস্থিত। নদীটি ভাঙ্গন প্রবন। এর ভাঙ্গনের প্রকোপে বাউফল ও গলাচিপা উপজেলার কোন কোন স্থান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এই তেতুলিয়া নদী পানপট্রি ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা গ্রাস করেছে। হাজার হাজার মানুষকে করেছে নিঃস্ব। সামুদ্রিক ঘূর্নিঝড় প্রতিরোধেভেড়ীবাঁধ নির্মিত হলেও তেঁতুলিয়ার সর্বগ্রাসী ক্ষুধা একে বিলীন করে দিয়েছে। ফলে পানপট্রি ইউনিয়নের বাসিন্দারা ঘূর্নিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্খা করছে। এ এলাকায় তেঁতুলিয়ার ভাঙ্গন রোধ কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহন ও ভেড়িবাঁধ নির্মাণেরপ্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। তেঁতুলিয়ার অন্যতম শাখালাউকাঠি নদী আস্তে আস্তে ভরাট হয়ে যাচ্ছে। এর ফলে পটুয়াখালী জেলা শহরের সাথে অন্যান্য জায়গায় নৌ যোগাযোগ ব্যাহত হবার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এই লাউকাঠি নদীতে চড় পড়ায় ড্রেজিং করে এর নাব্যতা  রক্ষা করা হচ্ছে। বড় বড় লঞ্চ টার্মিনালে ভিরতে অসুবিধা হচ্ছে। এসব অসুবিধা দূর করতে স্থায়ী ড্রেজিং ব্যবস্থা গ্রহণকরা দরকার। পটুয়াখালী জেলা শহরের দক্ষিণদিকে খরস্রোতা বহালগাছিয়া নদী প্রবাহিত ছিল। বর্তমানে আড়াআড়ি বাঁধ দিয়ে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। তেঁতুলিয়ার বিভিন্ন স্থানে চরদ্বীপের সৃষ্টি হয়েছে; এ সব দ্বীপে আবাদ ও বসতি স্থাপন করা হয়েছে।